ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

কোন শহরকে বলা হয় ‘বিশ্বকাপের রাজধানী’?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগ, ইতিহাস আর কিংবদন্তি জন্ম দেওয়ার এক মহামঞ্চ। আর সেই ইতিহাসের পাতায় এমন একটি শহরের নাম বারবার ফিরে আসে, যাকে ফুটবলপ্রেমীরা সসম্মানে ‘বিশ্বকাপের রাজধানী’ বলে থাকেন। শহরটির নাম মেক্সিকো সিটি।

ফুটবল ইতিহাসের দুই অমর কিংবদন্তি পেলে ও দিয়েগো মারাদোনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই শহর। ১৯৭০ সালে পেলের নেতৃত্বে ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয় যেমন ঘটেছিল এখানে, তেমনি ১৯৮৬ সালে মারাদোনার ‘ঈশ্বরের হাত’ এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এর জন্মও হয়েছিল এই শহরের বুকে। আর ঠিক সেই কারণেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকো সিটির গুরুত্ব অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আলাদা।

এই মর্যাদার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কিংবদন্তি এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম। প্রায় ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ডের মালিক। বিশ্বের একমাত্র ভেন্যু হিসেবে এটি তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ- ১৯৭০, ১৯৮৬ ও ২০২৬—আয়োজনের গৌরব অর্জন করেছে। বিশ্বকাপের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামই মেক্সিকো সিটিকে ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে এস্তাদিও আজতেকায় ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। পেলের নেতৃত্বে সেই ব্রাজিল দলকে এখনও অনেকেই সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে বিবেচনা করেন। শুধু শিরোপা জয়ই নয়, সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবল এবং গ্যালারিতে জন্ম নেওয়া বিখ্যাত ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ বিশ্ব ফুটবলের সংস্কৃতিকেও নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

এর ঠিক ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মেক্সিকো সিটি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মারাদোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘ঈশ্বরের হাত’ গোল করেন। এরপর একই ম্যাচে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যে গোলটি করেছিলেন, সেটি পরবর্তীতে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই বিশ্বকাপের ফাইনালেও পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন তিনি। ফলে মেক্সিকো সিটির নাম চিরদিনের জন্য জড়িয়ে যায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে।

চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের আলোয় আলোকিত হচ্ছে এই শহর। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেক্সিকো সিটিতেই। এবারের আসরে শহরটি মোট পাঁচটি ম্যাচ আয়োজন করবে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ, একটি রাউন্ড অব ৩২ এবং একটি রাউন্ড অব ১৬-এর লড়াই।

প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতার ঐতিহ্য, ফুটবলের প্রতি মানুষের উন্মাদনা এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত—সবকিছু মিলিয়ে মেক্সিকো সিটি কেবল একটি শহর নয়, এটি বিশ্বকাপের জীবন্ত ইতিহাস। তাই ফুটবল বিশ্বের কাছে ‘বিশ্বকাপের রাজধানী’ নামে পরিচিত হওয়ার দাবিদার যদি কোনো শহর হয়ে থাকে, তবে সেটি নিঃসন্দেহে মেক্সিকো সিটি।