মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ হামলা চালাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, রাডার ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ইতোমধ্যে ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ওয়াশিংটন ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের ওপর আরও বেশি নজরদারি ও প্রভাব বিস্তারের অবস্থানে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ভেনিজুয়েলার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প বলেন, দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলা—উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। একই ধরনের মডেল ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা কমাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে তিনজন ইরানি সূত্র এবং একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, জব্দকৃত ইরানি তহবিল কীভাবে মুক্ত করা যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনও বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানি সূত্রগুলোর মতে, একটি রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনও বাকি রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা কয়েক হাজার কোটি ডলারের ইরানি তেল রপ্তানি আয় মুক্ত করার প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত।
একজন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে বলেন, ইরান তার জব্দকৃত তহবিলের ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার তেহরানে ফেরত চায়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করতে আগ্রহী এবং সরাসরি ইরানের কাছে অর্থ ফেরত দিতে রাজি নয়।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সামরিক উত্তেজনা—উভয়ই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

