ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপকে ঘিরে কি বিলাচ্ছে মেক্সিকো ও কানাডা?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হচ্ছে ২৩তম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মেক্সিকো ও কানাডা।

বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিতরণের পরিকল্পনা করছে মেক্সিকো। একই সময়ে কানাডাও বিশ্বকাপ-থিমযুক্ত বিশেষ কনডমসহ বিভিন্ন যৌনস্বাস্থ্য সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করছে।

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ ঘিরে লাখো বিদেশি দর্শনার্থীর আগমন আশা করা হচ্ছে মেক্সিকোতে। সে কারণে সিফিলিস, গনোরিয়া ও এইচআইভি-সহ বিভিন্ন যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে দেশটি বড় পরিসরে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, বার, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে কনডমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু দর্শনার্থীদের মধ্যেই ৪০ থেকে ৫০ লাখ কনডম স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ করা হতে পারে, আর ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও প্রায় ২০ লাখ কনডম সরবরাহ করবে।

মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য রোকসানা ত্রেহো জানান, এই উদ্যোগ শুধু কনডম বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ যৌন আচরণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিমানবন্দরসহ প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ বুথ থাকবে, যেখানে কনডমের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক তথ্য দেওয়া হবে। তার ভাষায়, শুধু কনডম দেওয়া মানে তথ্য ছাড়া নিরাপত্তা দেওয়া অসম্পূর্ণ।

তিনি আরও জানান, পর্যটক ও সমর্থকরা যেখানে বেশি ভিড় করেন—যেমন নাইটক্লাব, বার ও রেস্তোরাঁ—সেখানেও এসব সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়া ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মেক্সিকো সিটির জোকালো স্কোয়ারে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালে কনডম বিতরণ কার্যক্রম চলবে।

রোকসানা ত্রেহো আরও বলেন, কোনো কারণে কনডম ব্যবহারে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (পিইপি) সুবিধাও রাখা হয়েছে, যা সময়মতো নিলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

যদিও আজ থেকেই বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে, মেক্সিকো সরকার এখনো মোট কত কনডম বিতরণ করা হবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে বছরে প্রায় ১ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ কনডম বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে।

অন্যদিকে কানাডাও নিরাপদ যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ তাদের ‘কনডমটু’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপ-থিমযুক্ত কনডমসহ বিভিন্ন নিরাপদ যৌনস্বাস্থ্য সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করছে।

এই সামগ্রীগুলো টরন্টো পাবলিক হেলথ পরিচালিত চারটি যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকে পাওয়া যাচ্ছে। কর্মসূচির লক্ষ্য হলো নিরাপদ যৌন আচরণ উৎসাহিত করা, সামাজিক সংকোচ কমানো এবং যৌনস্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা।

টরন্টো পাবলিক হেলথ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, প্রতিবার যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করলে যৌনবাহিত ও রক্তবাহিত সংক্রমণ, এইচআইভি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।