কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্যার ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শাকতলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন রাকিবের। সম্প্রতি ওই নারীর সঙ্গে একই এলাকার তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্তের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে দুই যুবকের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির ঘটনা ঘটে।
বুধবার রাতে প্রান্ত তার এক বন্ধুকে নিয়ে ধোড়করা বাজারে গেলে রাকিবের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ সময় হৃদয়কে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন সদস্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হৃদয়কে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের ডান পাশে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে প্রেমঘটিত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঘোষতল গ্রামের নূরুল আমিন ওরফে ফানসী (২৫), তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত (২৮) এবং জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের জসিম উদ্দিন (৪৯)।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের ভাই মো. ফারুক বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে হৃদয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

