হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত হিমাগার থেকে আলু বের না করার ঘোষণা দেওয়ায় জেলার কোল্ড স্টোরেজগুলোতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে বাজারে আলুর সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার সরকার কোল্ড স্টোরেজ ও উত্তরা কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার কোনো কার্যক্রম চলছে না। সাধারণত এ সময় হিমাগারগুলোর সামনে আলু কেনাবেচা, লোড-আনলোড ও পরিবহনের ব্যস্ততা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সেখানে ছিল স্থবির পরিবেশ।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, হিমাগার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে, যা আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, এক বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগার মালিকদের সর্বোচ্চ খরচ ১০০ টাকার মতো হলেও চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪৭৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। গত ১৯ এপ্রিল আমরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন দিয়েছি এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে ৩৬টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩৬ হাজার বস্তা আলু বাজারে সরবরাহ হওয়ার কথা। কিন্তু আন্দোলনের কারণে সেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আলুচাষি হারুন জানান, ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সকাল থেকেই তারা বিভিন্ন হিমাগারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি বলেন, অস্বাভাবিক ভাড়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
অন্যদিকে হিমাগার মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধিকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। আসমা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ বলেন, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরও কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবারও তারা ভাড়া কমানোর দাবি তুলেছে এবং আলু বের করা বন্ধ রেখেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মার্কেটিং অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, একটি ব্যবসায়ী সমিতি কম ভাড়ায় আলু সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে। তবে সরকার এখনো চলতি মৌসুমের জন্য আলুর মূল্য নির্ধারণ করেনি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। বাজার অর্থনীতিতে বেচাকেনা বন্ধ বা চালু রাখার বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে হিমাগার থেকে আলু সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। এতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

