দিনাজপুরে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির মামলার প্রধান আসামি লোকমান হোসেন লিখনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার বিরল উপজেলার পিপল্যা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৩ জানায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. সাদমান মাহমুদ মাহীর (২১) একটি ল্যাপটপ গত ১৯ জানুয়ারি ছাত্রাবাস থেকে হারিয়ে যায়। পরে ৩০ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বালুবাড়ী খোকন মৌলভীর মোড়ে অবস্থানকালে লোকমান হোসেন লিখন ও তার এক সহযোগী হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে মাহীর কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে।
অভিযোগে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে দেরি হওয়ায় অভিযুক্তরা মাহীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় যায়। সেখানে আরও ১০-১২ জন সহযোগীর সঙ্গে মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় চাকু দেখিয়ে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছে থাকা ১ হাজার ২২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার মা, বাবা ও খালুর কাছে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দিলে তিনি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনা জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মোছা. শিরীনাজ বেগম বাদী হয়ে ১ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩ এর সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি লোকমান হোসেন লিখনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

