ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চা বিক্রেতা মেয়ের মেডিকেলে পড়া, সহযোগিতার আহ্বান

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোরে চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার ডাক্তারি পড়া কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে? মাহমুদার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিণী। মাসুদ রানার দুই মেয়ে । এর মধ্যে মাহমুদা বড়, ছোট মেয়ে মিম খাতুন ষষ্ট শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন ।

মাহমুদা খাতুন ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ -৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সুযোগ পেয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছেন মাহমুদা খাতুন। কিন্তু টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হতে চলেছে মাহমুদার। 

বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী। আমরা পড়া লেখা জানি না। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াইছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি সে সময়। সে গরিবের মেয়ে হলেও তার চোখেমুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন। মাহমুদার বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নং ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।

মাসুদ রানা আরও বলেন, আমি গ্রামের ছোট দোকানের চা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এ আয় দিয়েই আমি গ্রামের কলেজে কোনোরকম পড়ালেখা করাতে পেরেছি। মেয়ে এখন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সে টাকাও ধার করে দিতে হয়েছে। ক্লাস শুরু হয়েছে, তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার ও একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও প্রতি মাসে খাতা-কলম ও হোস্টেলের খাওয়া খরচবাবদ মাহমুদার লাগবে আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। 

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাব। গ্রামে মাত্র ২ শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরির বাড়িতে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আল্লাহর কাছে কান্না করেন যেন পড়াশোনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরিব-দুখি মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারেন। সাহেরা বিবি বলেন, আমার এ গরিব মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। তার যে ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের বর্তমান সরকার ও দেশের বিত্তমানদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, আমার মেয়ের পাশে আপনারা দাঁড়াবেন।

মাহমুদা খাতুন বলেন, প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তাহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশোনায় একটু কষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়াও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) কিনতে বলেছেন। কিন্তু আমার বাবা টাকার অভাবে এখনো কিনে দিতে পারেনি। সব মিলিয়ে টাকার অভাবে কষ্টে পড়েছি, জানি না পড়ালেখা শেষ করতে পারব কি না।