ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ইউএনও ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। তিনি পাশের বোয়ালমারি উপজেলার দাতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় সেই প্রভাব ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাচারী পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
অর্থনৈতিক অনিয়মের দিক দিয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে: ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন, যার মধ্যে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা রাস্তা সংস্কার ও সিসি ক্যামেরার কাজে ব্যয় হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো প্রমাণ নেই।
২০২৪ সালে অডিট বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও তা অস্বাভাবিক এবং বিজ্ঞানাগারের উপকরণ ক্রয়েও টাকা ব্যবহার হয়নি।
সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায়ও বেতন উত্তোলন করা হয়েছে, যা বেআইনি। সাবেক সভাপতির ব্যাংক স্বাক্ষর এখনও ব্যবহার এবং পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং সপ্তাহে মাত্র দুই দিন হাজিরা দেখিয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সালথা ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্যতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক জয়ন্ত কুমার অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তারা চান সুষ্ঠু তদন্ত হয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন