ফরিদপুর সদর উপজেলায় জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বেরিবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে স্থানীয় পাঞ্জু মেম্বার, সজীব, সুজনসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিএনপি নেতা বদর উদ্দিন বেপারীর বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে বদর উদ্দিন বেপারীর ছেলে ও ডিক্রিরচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিন রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে সজীব, তামীম, সোহানসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার–পাঁচজন জাহাঙ্গীরের পথরোধ করেন। এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড, হাতুড়ি, রামদা ও ছেনি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় জাহাঙ্গীরের কাছে থাকা দোকানের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলার পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
বদর উদ্দিন বেপারী বলেন, জমি নিয়ে পাঞ্জু মেম্বারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তার ছেলের কাছে থাকা রড ও সিমেন্ট বিক্রির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আহত জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
তবে পাঞ্জু বেপারীর ভাই হেলাল উদ্দিন বলেন, তাদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে তাঁর ভাইকে মারধর করা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

