ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ফেনীতে সায়েম উদ্দিন নামে এক তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টুর সংসদীয় এলাকার দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।
সায়েম উদ্দিন আল-জামেয়াতুল মালাহিয়া কামিল মাদ্রাসার ফাজিল (ডিগ্রি) শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের সময় শহরের মহিপালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অস্ত্রধারীদের প্রতিরোধে অংশ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। সেদিন ছাদের ওপর থেকে হামাগুড়ি দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী-৩ আসনের অ্যাম্বাসেডর আবদুল্লাহ আল জোবায়ের জানান, নির্বাচনের পরদিন রাত ৮টার দিকে কোরবানপুর রাস্তার মাথায় সায়েমকে একা পেয়ে পাশের স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ৪-৫ জন ব্যক্তি তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সায়েমকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তার অভিযোগ, হামলাকারীরা মুখচেনা এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কারণেই সায়েমের ওপর হামলা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকায় আরও কয়েকজনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে সায়েমের খোঁজ নেন। এ সময় জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নানসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলায় যেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে দলের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।


