দেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরেও ফেনী জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল সাধারণ মানুষের। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামের কৃতী সন্তান, দেশের খ্যাতিমান শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু।
গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফেনীজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ ২৫ জনকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসন থেকে এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেলেন ফেনীর মানুষ। এর আগে খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও একবার বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া জাফর ইমাম ১৯৮৯-১৯৯০ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯০-৯১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেচ, বন, পরিবেশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন কাজী ফজলুর রহমান।
এ ছাড়া ২০০৮-০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম।
ফেনীবাসীর প্রত্যাশা, পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
-20260219111546.webp)

