ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মোট ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও মেরামতযোগ্য। বরাদ্দের অভাবে সময়মতো মেরামত হচ্ছে না এসব ক্লিনিক। উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পালগিরী কমিউনিটি ক্লিনিকটি এখন নিজেই যেন এক ‘রোগাক্রান্ত’ ভবনে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, উপজেলার প্রায় ক্লিনিকে এমন চিত্র। জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙা মেঝে আর তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের হাজারো মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য কোনো দৃশ্যমান পথ নেই। ক্লিনিকের প্রধান ফটকের ওপরে থাকা সাইনবোর্ডটি মলিন ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনটির বাইরের দেয়ালে শেওলা ও আস্তর খসে পড়ার ছাপ স্পষ্ট। তবে ভেতরের চিত্র আরও ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্লিনিকের একটি কক্ষের ভেতরে রোগীদের বসার বা পরিদর্শনের জন্য তৈরি করা সিমেন্টের স্থায়ী বেঞ্চের ঠিক নিচের মেঝেটি সম্পূর্ণ ধসে গেছে। মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশাল গর্ত, যেখানে ফ্লোর ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যেকোনো মুহূর্তে এই পুরো বেঞ্চ ও মেঝে ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটির এমন বেহাল দশা চলে আসলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এই এলাকার প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি।
দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক রোগী এখন ক্লিনিকে আসতে ভয় পাচ্ছেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পালগিরী কমিউনিটি ক্লিনিকের এই জরাজীর্ণ ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, মনিকা দে বলেন, দীর্ঘ এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিক। আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতনকে জানিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পালগিরি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ আরও প্রায় ১২টির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিক। এ ছাড়া ৮টির মতো মেরামতযোগ্য ক্লিনিক রয়েছে। আমি তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আশা করি, দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, বিভিন্ন সময় বাজেটের মধ্যে ক্লিনিকগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিক রয়েছে আগামীতে বরাদ্দ পেলে ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলো চিহ্নিত করে কাজ করানো হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন