আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো থাকলেও নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও প্রতিযোগিতামূলক খেলার অভাবে প্রাণহীন হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্টেডিয়ামে বড় কোনো ক্রিকেট আয়োজন না থাকায় একদিকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান অবকাঠামো, অন্যদিকে ক্রিকেট থেকে ঝরে পড়ছেন জেলার সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড়রা।
স্টেডিয়ামটিতে রয়েছে সবুজ ঘাসের মাঠ, গ্যালারি, মিডিয়া সেন্টারসহ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী বিভিন্ন সুবিধা। তবে বছরের বেশির ভাগ সময় মাঠটি পড়ে থাকে প্রায় ফাঁকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত খেলা না হওয়ায় মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাটির পিচ ও অন্যান্য অবকাঠামো।
জানা যায়, ২০০৬ সালে উদ্বোধনের পর একবার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মৃতি টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলেও এরপর বড় পরিসরের ক্রিকেট আয়োজন আর নিয়মিত হয়নি। বর্তমানে মাঝে মধ্যে অনুশীলন ও ছোটখাটো কিছু খেলা হলেও তা মাঠ সচল রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের অভিযোগ, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাবে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সুযোগের সংকটে অনেকে ক্রিকেট ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন।
অনুশীলনে আসা কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার বলেন, ‘ভালো মানের খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত খেলার সুযোগ নেই। ঢাকার মতো লিগ বা প্রতিযোগিতা না হওয়ায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি।’
সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মুখলেস উদ্দীন বলেন, ‘এত সুন্দর একটি স্টেডিয়াম থাকার পরও নিয়মিত খেলা না হলে নতুন প্রজন্ম ক্রিকেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। জেলা লিগ, বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ও আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটার উঠে আসবে।’
জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘কিশোরগঞ্জে নিয়মিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিসিবির কাছেও প্রত্যাশা, স্টেডিয়ামটিকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্টেডিয়ামকে শুধু সীমিত অনুশীলন বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত ক্রিকেট আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
তাদের আশা, আবারও মাঠে ফিরবে খেলার উত্তাপ, আর কিশোরগঞ্জ থেকেই উঠে আসবে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের ক্রিকেটার।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন