× UCB Sticker Card
সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

মহিপুরে গড়ে উঠেছে শতাধিক নার্সারি

বগুড়ার শেরপুরের চারা যাচ্ছে পাহাড়ে, বছরে ১০ কোটি টাকার নার্সারি বাণিজ্য

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ঢালে আজ যে সবুজের সমারোহ চোখে পড়ে, তার বড় একটি অংশের শিকড় উত্তরবঙ্গের বগুড়ার শেরপুরে। উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার নার্সারিগুলোতে উৎপাদিত ফলদ ও বনজ গাছের চারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই নার্সারি শিল্প এখন বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার বাণিজ্যের পাশাপাশি হাজারো মানুষের জীবিকার উৎসে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি নার্সারি রয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরও ৩০ থেকে ৪০টি ছোট নার্সারি গড়ে উঠেছে। দেশি-বিদেশি ফলদ, বনজ ও ফুলের চারার উৎপাদন এবং সরবরাহের জন্য অঞ্চলটি বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

নার্সারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার উৎপাদিত চারার সবচেয়ে বড় বাজার পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিয়ানীবাজার, শাহপরান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের নানা অঞ্চলে নিয়মিত চারা সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহৃত চারার প্রায় ৭০ শতাংশই আসে শেরপুরের নার্সারিগুলো থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ সরবরাহ করা হয় উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকে।

এখানকার নার্সারিগুলোতে আমের মিয়াজাকি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, চেংমাই ও চাকা জাতের চারা ছাড়াও সূর্যডিমসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলের চারা উৎপাদন করা হয়। বনজ গাছের মধ্যে মেহগনি, বেলজিয়াম ও লম্বু গাছের চারারও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৯২ সালে অল্প পরিসরে শুরু হওয়া এই শিল্প সময়ের সঙ্গে একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। সরাসরি কয়েকশ মানুষ কাজ করলেও পরোক্ষভাবে প্রায় এক হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এ খাতের ওপর।
বরিশাল থেকে চারা কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, ‘এখানকার আম, মেহগনি, কাঁঠাল, রামবুটান ও লিচুর চারার মান ভালো। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আমরা এখানে এসে চারা সংগ্রহ করি।’

শেরপুর উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার নার্সারিতে প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা নার্সারি থেকে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইসলাম নার্সারি অ্যান্ড সিডের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৯২ সালে মাত্র তিন শতক জমিতে ৩০০ টাকার ৬০০টি মেহগনি চারা দিয়ে যাত্রা শুরু করি। পরে সেগুলো ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করি। ১৯৯৪ সাল থেকে আমের চারা উৎপাদন শুরু করি। এখন আমাদের নার্সারিতে শতাধিক প্রজাতির গাছ রয়েছে।

তিনি জানান, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। মাল্টি গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উন্নত জাতের আমের চারা উৎপাদন এখন বেশ জনপ্রিয়। ছাদ বাগানের প্রসারের কারণে ছোট আকৃতির ফলদ চারার চাহিদাও বেড়েছে। তবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, সার সংকটের সময়ে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ, স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং নার্সারি খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, নার্সারিগুলোকে তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধনের আওতায় এনে আমরা সরকারকে রাজস্ব আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছি। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে এই শিল্পের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দীন পারভেজ বলেন, নার্সারি শিল্প একটি পরিবেশবান্ধব খাত। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে সবুজায়ন বৃদ্ধিতে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বন বিভাগ এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে।

দেশের সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বগুড়ার শেরপুরের মহিপুরের নার্সারিগুলো। এখানকার উৎপাদিত চারায় যেমন সেজে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, তেমনি বিস্তৃত হচ্ছে দেশের সবুজ অর্থনীতির পরিধিও।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!