পোষ্য বিড়াল ছিল তার নিত্যসঙ্গী। সেই আদরের প্রাণীকে উদ্ধার করতে গিয়েই বিপদে পড়ল এক কলেজছাত্রী। চারতলা ভবনের কার্নিশে আটকে পড়া ওই শিক্ষার্থীকে পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-রেজিস্টার অফিস এলাকার একটি চারতলা ভবনে। ভবনটি রুহুল আমিনের মালিকানাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনের একটি ইউনিটে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন মেহজাবীন (ছদ্মনাম)।
তিনি স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বেশ কিছুদিন ধরে ‘মিন্নু’ নামে একটি বিড়াল লালনপালন করে আসছিলেন তিনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকে বিড়ালটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না মেহজাবীন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যার দিকে মিউমিউ শব্দ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, বিড়ালটি চারতলা ভবনের কার্নিশে উঠে গেছে। কার্নিশের অবস্থান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য পা পিছলে নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি ধারণা করেন, বিড়ালটি সেখানে আটকে পড়েছে এবং নিজে থেকে নামতে পারছে না। সে জন্য প্রথমে ছাদ থেকে ঝুঁকে বিড়ালটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন মেহজাবীন। তাতে ব্যর্থ হয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া নিজেই কার্নিশে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনিও কার্নিশে আটকে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে জানালে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় নিরাপদে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খায়রুল আলম বলেন, চারতলা ভবনের কার্নিশে এক শিক্ষার্থী আটকে পড়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই এভাবে উঁচু ভবনের কার্নিশে ওঠা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সৌভাগ্যক্রমে আমরা কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তাকে উদ্ধার করতে পেরেছি।
ঘটনার পর এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান।



