মামলা তুলে না নেওয়ায় গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা তার গাড়িও ভাঙচুর করেছে এবং পিস্তল তাক করে হত্যার হুমকি দিয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর সদর থানাধীন রাজবাড়ী এলাকায় এবং বিকেলে ধীরাশ্রম এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী গাজীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী জানান, গত বছরের ২৮ জুলাই তার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি টঙ্গীর আমতলী হিমারদিঘী এলাকার চোরাই মালামাল ব্যবসায়ী আব্বাস আলী (৫৫), তার ছেলে মো. রাকিব (২৫), রাতুল (২০) ও হৃদয়কে (১৯) আসামি করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে নিয়মিত হুমকি দিতে থাকে।
পরবর্তীতে ৩ আগস্ট ২০২৫ তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এই সাধারণ ডায়েরির পর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
বুধবার সকালে আব্বাস আলী ও তার সহযোগীরা গাজীপুর জজ কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে আইয়ুব আলীও টঙ্গী পূর্ব থানায় জব্দকৃত মালামাল নিজ হাতে বুঝে নিতে গাজীপুর জজ কোর্টে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের মূল ফটকে আব্বাস আলী ও তার সহযোগীরা ছাত্রদল নেতা আইয়ুব আলীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি আদালতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
আহত আইয়ুব আলীর অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টিএন্ডটি মরকুনের বাসায় ফেরার পথে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ধীরাশ্রম এলাকায় আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা আব্বাস আলীর ছেলে রাকিবের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার গাড়ি ঘিরে ফিল্মি কায়দায় হামলা চালায়। এ সময় তারা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করে গাড়ির পথ রোধ করে এবং পিস্তলের বাট দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাড়িতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও আঘাত করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। গাড়ি থেকে না নামায় আইয়ুব আলী প্রাণে রক্ষা পান।
আইয়ুব আলী আরও বলেন, ‘মামলা তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়, সে দাবি জানাই। হামলাকারীরা তাদের অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলে আমি আশা করি।’
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইয়ুব আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে যাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব, তারাও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


