আগের মতো কোনো ষড়যন্ত্র বা ভোট ডাকাতি যেন না হয়, সে জন্য ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ধানের শীষের ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের জামাত আদায়ের পর ভোট দিতে হবে, যেন কেউ আগে থেকে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গাজীপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যে অধিকার আদায় করতে হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন, সেই অধিকার যেন কেউ আর হরণ করতে না পারে।
তার বক্তব্যে তিনি তিনটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—গার্মেন্টস শিল্পের মতো নতুন নতুন কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান।
তিনি বলেন, গাজীপুর গার্মেন্টস শিল্পের রাজধানী। এখানে লাখ লাখ মা-বোন কাজ করেন। এই গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিজয়ী হলে গার্মেন্টস শিল্পের মতো আরও নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে।
পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মা-বোনদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে হেলথ কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।
গাজীপুর উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে রেলগেট এলাকায় ওভারপাস নির্মাণ, বিআরটি প্রকল্প চালু করে যানজট নিরসন এবং লবনদহ ও চিলাই খালসহ তিনটি খাল খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হবে, যাতে স্বচ্ছ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, আমার ছোটবেলার অনেকটা সময় গাজীপুরে কেটেছে। এই মাঠেই আমি খেলাধুলা করেছি। গাজীপুরের মানুষের কাছে আমার একটি হক আছে। আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি—ধানের শীষকে বিজয়ী করুন।
তারেক রহমান আরও বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারের বিদায় হয়েছে। এখন দেশ গড়ার পালা, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিশ্রম করলে ইনশাল্লাহ প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর ৫ আসনের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-১ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম ও হেফাজত নেতা নাসির উদ্দিন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দীর্ঘ ২০ বছর ৯ মাস ২৮ দিন পর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো রাজবাড়ী ময়দান। দুপুরের পর থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগেই জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ গাজীপুরে এসেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।



