ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পনগরী গাজীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, ফলে প্রতিটি আসনে নির্বাচনি লড়াই তীব্র ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বড় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৮ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩৪ জন।
এবার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন, যা নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ২২ হাজার ৯১১ জন।
জেলায় মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪০টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আসনভিত্তিক তথ্য:
গাজীপুর-১: কালিয়াকৈর ও সিটি কর্পোরেশনের একাংশ নিয়ে গঠিত। ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা: বিএনপি (মজিবুর রহমান, ধানের শীষ), জামায়াত (মো. শাহ আলম বকশী, দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন (রুহুল আমিন, হাতপাখা)। ভোটার সংখ্যা: ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৩৭; ভোটকেন্দ্র: ২৩৭টি (ঝুঁকিপূর্ণ ১২১টি)।
গাজীপুর-২: ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াই: বিএনপি (এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, ধানের শীষ) বনাম এনসিপি (অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, শাপলা কলি)। ভোটার সংখ্যা: ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩; ভোটকেন্দ্র: ২৭২টি (ঝুঁকিপূর্ণ ১৬২টি)।
গাজীপুর-৩: ৭ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা: বিএনপি (ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ধানের শীষ), স্বতন্ত্র (ইজাদুর রহমান মিলন, ঘোড়া), খেলাফত মজলিস (মুহাম্মদ এহসানুল হক, রিকশা)। ভোটার সংখ্যা: ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৯; ভোটকেন্দ্র: ১৮০টি (ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি)।
গাজীপুর-৪: ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান লড়াই: বিএনপি (শাহ রিয়াজুল হান্নান, ধানের শীষ) বনাম জামায়াত (সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, দাঁড়িপাল্লা)। ভোটার সংখ্যা: ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭; ভোটকেন্দ্র: ১২২টি (ঝুঁকিপূর্ণ ৪৬টি)।
গাজীপুর-৫: ৭ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। আলোচিত প্রার্থীরা: বিএনপি (একেএম ফজলুল হক মিলন, ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন (গাজী আতাউর রহমান, হাতপাখা), জামায়াত (খায়রুল হাসান, দাঁড়িপাল্লা)। ভোটার সংখ্যা: ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩; ভোটকেন্দ্র: ১২৪টি (ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি)।
প্রশাসনের প্রস্তুতি:
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এদিকে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার ব্যস্ততা তীব্র। পোস্টার, মাইকিং, পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে পুরো জেলা সরগরম। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে শ্রমিক, তরুণ ভোটার এবং নতুন ভোটারদের ভূমিকা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, উত্তেজনা ও আগ্রহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

