ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় একটি কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থিত নেসলে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত নেসলে কারখানাকে ঘিরে ঝুট ও শ্রমিক সরবরাহসহ বিভিন্ন ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সম্প্রতি ওই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে একই দলের অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এবং এলোপাতাড়ি হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানান। এতে কয়েকজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে আবির, ফারুক, মিরাজ, মনির হোসেন ও রনির নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমতি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেসলে কারখানার ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

মঙ্গলবার সকালে কারখানা থেকে মালামাল বের করার জন্য শ্রমিক নিয়ে প্রধান ফটকে গেলে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইউনুস আলী নছ মিয়া এবং শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সজিব খানের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় কয়কজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তবে অভিযুক্ত ইউনুস আলী নছ মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।