ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পদ্মার মতো তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পদ্মার মতো সরকার তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২০ মে) গাজীপুরের সাতাইশে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ইনস্টিটিউটি প্রায় আট একর জমির ওপর নির্মিত হবে। এখানে প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসিক ভবনও থাকবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব সংস্থার সংশ্লিষ্ট সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও এ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ইনশাল্লাহ, এ বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে। তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বড় বড় কথা বলছে, তাদের উদ্দেশে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ‘এই যে আজকে এখানে দুর্যোগমন্ত্রী (আসাদুল হাবিব দুলু) বসে আছেন, এই লোকটার নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তারা হয়তো বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে। কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে, সেটা বিএনপিই করেছে, ইনশাল্লাহ বিএনপি সেটা করবে।’

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কেন জরুরি তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, কয়েকদিন আগে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে আমরা পদ্মা নদীর সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ তৈরি করব। পদ্মা ব্যারাজ এজন্য তৈরি করব যে, সীমান্তের ওপারে ব্যারাজ তৈরি করার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পানি তারা নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে পানিটি আসছে, শুকনা মৌসুমে হয়তো আমরা কম পাচ্ছি। নদীতে পানির স্রোত কমে যাওয়ার ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, ছোটবেলায় আমরা দেখেছি, পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। তবে তখন পানি ছিল, এখন পানিশূন্য।’

তিনি আরো বলেন, কেন আমরা পদ্মা ব্যারাজটি করতে চাচ্ছি? পদ্মা ব্যারাজটি আমরা এজন্য করতে চাচ্ছি যে, বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে আমাদের দেশের মানুষ, কৃষকই হোক বা যেকোনো মানুষ হোক, তারা যাতে পানি পায়। আরেকটা বিপজ্জনক ব্যাপার হচ্ছে, এই ফারাক্কা বাঁধ হওয়ার কারণে যেটি হচ্ছে, ধীরে ধীরে যেহেতু পানির পরিমাণ কমছে, সেজন্য সমুদ্রের পানি দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকছে। ফলে সুন্দরবনসহ ওই সব অঞ্চলে যে সমস্যাগুলো আছে, নোনতা পানি বেশি পরিমাণে ভেতরে চলে আসার কারণে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা যদি সেই প্রেসারটাকে রাখতে চাই, আমাদের ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারাজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখব। যখন বাড়তি পানি, বর্ষার মৌসুমে যে পানিটা আসে, সেই পানি আমরা ধরে রাখতে পারব। যাতে সেই পানি আমরা মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি, সেই পানিকে আমরা আরো যাবতীয় কাজে ব্যবহার করতে পারি।

পরিবেশ-জলবায়ু বদলাচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্লাইমেট বা আবহাওয়া কিন্তু চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। আমি আসার সময় দেখলাম, একটা জায়গায় বালির ওপরে একটা ডিঙি নৌকার মতো বেশ বড় একটা নৌকা পড়ে আছে। ওটা দেখে আমার মনে হলো, এই এলাকাটা খুব সম্ভবত ২০-২৫ বছর আগে, এখানে পানি ছিল, এখানে নদী ছিল।

জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে জায়গাও সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপুল বৃক্ষনিধনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাসস্থান তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিছুদিন আগে আমি হঠাৎ করে একদিন সকালে পত্রিকায় দেখলাম, কক্সবাজার থেকে বিচের পাশ দিয়ে একদম উখিয়া পর্যন্ত একটা রাস্তা করা হচ্ছে…একটা বিচ রোড করা হচ্ছে। যেকোনো কারণেই হোক রোডের ডিজাইনের কারণে প্রায় তিন হাজার গাছ কেটে ফেলতে হবে। এ সংবাদ দেখার পরে আমি পরে এইটার দায়িত্বে যেই মন্ত্রী আছেন, ওনাকে ফোন করে নিউজটা আমি ওনাকে পাঠালাম। পাঠিয়ে আমি বললাম যে, ওদের সঙ্গে কথা বলেন। ডিজাইনটাকে একটু চেঞ্জ করা যদি সম্ভব হয়, ভালো হয়। এই গাছ কাটা যাবে না। কী করবে, না করবে সেটা তারা ডিসাইড করুক। কিন্তু এই গাছ কাটা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রকৃতির দুর্যোগ আসবে, সেটিকে আমরা বন্ধ করতে পারব না। সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। দুর্যোগ আমরা থামাতে পারব না। কিন্তু আমরা যেটা করতে পারি, আমরা দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করতে পারি। মানুষকে সচেতন করতে পারি। আজকে এই অনুষ্ঠানে একটি শপথ হওয়া উচিত। আমরা শুধু মানুষকে সচেতনই করব না, নিজেরাও সচেতন হব। দুর্যোগ হলে কীভাবে আমরা মানুষ এবং সম্পদকে রক্ষা করতে পারি, কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারি? নিজেকে কীভাবে রক্ষা করতে পারি? আরেকজনকে কীভাবে রক্ষা করতে পারি? কীভাবে মানুষের সম্পদ রক্ষা করতে পারি? সেটিই হোক আমাদের আজকের এ অনুষ্ঠানের শপথ।

তিনি বলেন, ‘এই গরিব দেশে আমাদের সম্পদ কম। আমরা যদি সম্পদকে রক্ষা করতে পারি, সম্পদকে সঠিকভাবে দেশ এবং মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি ধীরে ধীরে আমরা অন্য একটি উন্নত দেশের মত গড়ে উঠতে পারব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব ‍দুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সচিব সাইদুর রহমান খান, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক নুরুল করীম ভুঁইয়া আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব) জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মনজুরুল করিম রনি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।