ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে চলমান লে-অফ আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ কারখানার প্রধান ফটকে টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
লে-অফের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
কেয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ধারা-১২ অনুযায়ী, গত ৬ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সম্ভাব্য ৩৫ দিনের জন্য লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে এখনো পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আগামী ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আরও সাত দিনের জন্য লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। লে-অফ চলাকালে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা প্রদান করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ধারা-১৬ অনুযায়ী যেসব শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত লে-অফের দিনগুলোর জন্য আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নোটিশের মাধ্যমে তাদের পুনরায় কাজে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রায় ১৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসা ভাড়া, দোকানের বাকি এবং সন্তানদের স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে না পেরে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। কবে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন (পিপিএম) বলেন, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে গত ৬ জুন থেকে কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে লে-অফ কার্যকর রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এর মেয়াদ আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

