ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

রাণীশংকৈলে ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি রেকর্ডে গলদ

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সরকারি ভবন, সরকারি শিক্ষক, নিয়মিত পাঠদান—সবই চলছে। কিন্তু যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তার মালিকানা এখনো সরকারি খতিয়ানে নিশ্চিত হয়নি। কোথাও দাতার নামে, কোথাও উত্তরাধিকারীদের নামে, আবার কোথাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে জমির রেকর্ড। ফলে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টির জমির রেকর্ড ও নামজারি এখনো সরকারের নামে সম্পন্ন হয়নি। এতে নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর, অবকাঠামো সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৫ শতক জমি এখনো বি.আর.এস. রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাটশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ শতক জমির রেকর্ড এখনো ‘পূর্ব পাকিস্তান সরকার’-এর নামে রয়েছে। ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ শতক জমির রেকর্ড বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে। এভাবে উপজেলার ৩৮টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ বিঘা জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হালনাগাদ হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় স্থানীয় ব্যক্তি বা পরিবারের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে দাতাদের মৃত্যুর পর অনেক ক্ষেত্রে জমি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি হলেও সরকারের নামে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আবার কয়েকটি বিদ্যালয় এস.এ. জরিপের পর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সেসব জমি প্রথমদিকে রেকর্ডভুক্ত হয়নি। পরবর্তী বি.আর.এস. জরিপের সময়ও প্রয়োজনীয় আবেদন ও কাগজপত্র যথাসময়ে দাখিল না হওয়ায় সমস্যাটি রয়ে গেছে।

চোপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুমা খাতুন বলেন, জমির রেকর্ড হালনাগাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।

বনগাঁও শিয়ালডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরন নবী বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জমিতে পরিচালিত হলেও জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হয়নি। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় তথ্য শিক্ষা অফিসে দেওয়া হয়েছে।

ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সইদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে। সরকারের নামে হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দ্রুত সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী বা অংশীদারদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠ কিংবা অবকাঠামো দখলচেষ্টার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমির মালিকানা শতভাগ নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও নির্বিঘ্ন হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়নি, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হয়নি, সেগুলো উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি বিভাগের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জমি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা অনেকাংশে দূর হবে।