আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির কদর বাড়ছে। তাই গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের প্রার্থীদের নজর এখন ঠাকুরবাড়ির দিকে। হরিচাঁদ–গুরুচাঁদ ঠাকুরের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িকে মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থভূমি বলা হয়। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, হিন্দু-অধ্যুষিত আসনগুলোতেও এ বাড়ির একটি বড় প্রভাব রয়েছে। আর গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে।
এই ভোট এবারের নির্বাচনে নিয়ামক হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যে প্রার্থীর পাল্লায় এই ভোট উঠবে, জয়ের ব্যাপারে তিনি ততটাই এগিয়ে যাবেন। আর ঠাকুরবাড়ির উত্তরসূরিরা যাকে আশীর্বাদ করবেন, মতুয়ারা সাধারণত তাকেই ভোট দেন। এই ধারা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। পূর্বের প্রতিটি নির্বাচনেই তার প্রমাণ রয়েছে। তাই অনেকে মনে করছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। ইতোমধ্যে ঠাকুরবাড়ির মুরুব্বিদের আশীর্বাদ নিতে সেখানে প্রার্থীরা যাচ্ছেন। ঠাকুরবাড়িকেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তারা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে ঠাকুর পরিবারের সদস্য পদ্মনাভ ঠাকুর ও মতুয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানী।
এ সময় ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জ-০১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম ঠাকুরবাড়িতে যান। সেখানে ঠাকুর পরিবারের অন্যতম উত্তরসূরি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সুব্রত ঠাকুরসহ ঠাকুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় গোপালগঞ্জ-০২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. কে এম বাবরসহ গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সেলিমুজ্জামান সেলিম ঠাকুরবাড়ির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, আগত মতুয়া ভক্তদের থাকার ব্যবস্থা এবং বাৎসরিক স্নানোৎসবে আগত হাজার হাজার মতুয়া ভক্তদের থাকা, খাওয়া ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।
আগামীতে ঠাকুরবাড়ির প্রতিটি উৎসবে তিনি থাকবেন এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে ঠাকুরবাড়ির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।
গোপালগঞ্জের সনাতন হিন্দু নেতা কবি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। এই ভোটের ওপরই গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। আর ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি হচ্ছে মতুয়াদের তীর্থভূমি। ঠাকুরের উত্তরসূরীদের কাছে সবসময় প্রার্থীরা আশীর্বাদ নিতে যান। এবারও বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা যাচ্ছেন। আরও অনেকেই যাবেন।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন