ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
অভিযুক্ত রুঙ্গু খান।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি শীতবস্ত্র জনগণের মাঝে বিতরণ না করে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া উপকারভোগীদের (মাস্টাররোল) তালিকা জমা দিয়ে কম্বল গ্রহণ করে সেগুলো বাইরে বিক্রি করেছেন তিনি।

এ অভিযোগ উঠেছে উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুঙ্গু খানের বিরুদ্ধে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১৫০ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ইউপি সদস্য রুঙ্গু খানকে ২১টি কম্বল দেওয়া হয়। তিনি গত ২ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসব কম্বল গ্রহণ করেন।

তবে ওই ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুমে তারা সরকারি কোনো কম্বল পাননি। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষজন শীতের কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

তালিকায় নাম থাকা আবেজান বেগম, নাসিমা বেগম ও জুলি খানম বলেন, তালিকায় তাদের নাম থাকলেও তারা কোনো সরকারি কম্বল পাননি। ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান তাদের কোনো কম্বল দেননি। তাই তারা শীতের কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ছাড়া তালিকায় থাকা নাম ও নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মাজেদা বেগম ও রোজিনা খানম জানান, তারা বর্তমানে খুলনার সোনাডাঙ্গা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, তালিকায় থাকা বাকি নম্বরগুলো বন্ধ অথবা ব্যবহৃত হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটগাতী ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য বলেন, ভুয়া উপকারভোগীদের তালিকা জমা দিয়ে রুঙ্গু মেম্বার পরিষদ থেকে কম্বলগুলো গ্রহণ করেন। পরে সেগুলো রাসেল নামের এক ভ্যানচালকের ভ্যানে করে নিয়ে পাটগাতী বাজারে বিক্রি করে দেন। যেসব কম্বল হতদরিদ্রদের পাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বিতরণ না করেই তিনি বিক্রি করেছেন।

তবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, তিনি কোনো কম্বল বিক্রি করেননি। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই কম্বল বিতরণ করা হয়েছে দাবি করে তিনি কলটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, দরিদ্রদের শীতের কষ্ট লাঘবে সরকার কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে। যদি উপকারভোগীদের না দিয়ে কোনো ইউপি সদস্য কম্বল বিক্রি করে থাকেন, তবে তা অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।