× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

জোয়ারে ডোবে ভাটায় ভাসে গোপালগঞ্জের ‘মিনি কক্সবাজার’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

গোপালগঞ্জের ‘মিনি কক্সবাজার’। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জের ‘মিনি কক্সবাজার’। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা মধুমতী নদীর বুকে জেগে ওঠা একটি বিশাল চর এখন স্থানীয়দের কাছে নতুন এক পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশির মাঝে জোয়ারে ডুবে থাকা আর ভাটায় মাথা তুলে দাঁড়ানো এই বিস্তীর্ণ বালুচরকে অনেকেই ভালোবেসে নাম দিয়েছেন 'মিনি কক্সবাজার'। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠছে এলাকাটি।

গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে চর মাটলা খেয়াঘাটের অদূরে অবস্থিত এই চরে এখন মানুষের ঢল নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে জায়গাটির সৌন্দর্যের খবর। ফলে গোপালগঞ্জ, নড়াইল ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই নতুন পর্যটন স্পটে।

মধুমতি নদীর মাঝ বরাবর বিস্তৃত এই চরটি প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। জোয়ারের সময় পুরো চরটি পানির নিচে চলে যায়, আবার ভাটার সময় ধীরে ধীরে জেগে ওঠে বিশাল বালুকাময় ভূমি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন নদীর বুক চিরে এক টুকরো সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত তৈরি হয়েছে।

এই দৃশ্য অনেককেই মনে করিয়ে দেয় দেশের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের কথা। তবে এখানে নেই সমুদ্রের ঢেউ, আছে শান্ত নদীর নীল জল আর বিস্তীর্ণ বালুচর। বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের আলো পড়লে পুরো এলাকা যেন সোনালি আভায় ঝলমল করে ওঠে।

স্থানীয়দের মুখে মুখেই জায়গাটির নাম হয়ে গেছে 'মিনি কক্সবাজার'। কারণ, এখানে এসে অনেকেই বালুর ওপর হাঁটা, ফুটবল খেলা কিংবা নদীর জলে গা ভেজানোর আনন্দ উপভোগ করেন, যা অনেকটা সমুদ্রসৈকতের অভিজ্ঞতার মতোই।

অনেক দর্শনার্থীর মতে, যারা দূরের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যেতে পারেন না, তাদের জন্য এই জায়গাটি যেন কাছের এক বিকল্প বিনোদন কেন্দ্র। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকা। ছুটির দিনগুলোতে এই ভিড় আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

চরের বালুর ওপর ছোট ছোট দল বেঁধে মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ খেলছেন ফুটবল, কেউ-বা ছবি তুলছেন। তরুণ-তরুণীদের অনেকেই নদীর পানিতে নেমে সাঁতার কাটছেন বা পা ভিজিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ।

নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যাম চন্দ্র রায় এসেছিলেন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে। তিনি বলেন, এলাকাটি সত্যিই বেশ মনোমুগ্ধকর। বেড়ানোর জন্য বেশ ভালো জায়গা। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য দেখে বেড়াতে এসেছি।

বাগেরহাটের চিতলকারী থেকে আসা এক দর্শক বলেন, ‘আমরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। জায়গাটা খুব সুন্দর। নদীর মাঝখানে এমন একটি বালুচর সত্যিই অসাধারণ লাগছে। অনেকটা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার মতো অনুভূতি।’

আরেকজন তরুণ আশিক বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে ফুটবল খেললাম। চারদিকে নদী আর মাঝখানে বিশাল বালুচর-অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অন্যরকম।’

দর্শনার্থীদের আনাগোনার ফলে এলাকায় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকানপাট। কেউ বিক্রি করছেন চা, পানীয় বা হালকা খাবার, আবার কেউ বিক্রি করছেন বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় পণ্য।

দোকানিরা জানান, পর্যটকের ভিড় বাড়ার কারণে তাদের বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে। একজন দোকানি বলেন, ‘আগে এখানে তেমন কোনো ব্যবসা ছিল না। এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। এতে আমাদের আয়ও বেড়েছে।’

চরে যেতে হলে নদী পার হতে হয় ট্রলার বা নৌকায়। ফলে স্থানীয় ট্রলার চালকরাও এখন ভালো আয় করছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ নদী পারাপার করছেন।

ট্রলার চালক ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ‘আগে এই ঘাটে খুব কম মানুষ যেত। এখন প্রতিদিন অনেক যাত্রী আসে। এতে আমাদের আয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।’

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত এলাকাটি তদারকি করছেন এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা দর্শনার্থীদের নিরাপদে চলাচল, নদীতে নামার সময় সতর্কতা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহম্মেদ রোববার বিকেলে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক মানুষ ঘুরতে আসছেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কেউ নদীতে ডুবে গেলে দ্রুত উদ্ধার করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এলাকাটিকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে এই চরে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ, কাছাকাছি এমন একটি বিনোদন কেন্দ্র থাকায় অনেকেই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসতে পারেন। 

তাই অনেকের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা থাকলে মধুমতির বুকে জেগে ওঠা এই চর ভবিষ্যতে একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখরিত এই বালুচর এখন সত্যিই হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ অঞ্চলের নতুন আকর্ষণ ‘মিনি কক্সবাজার’।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!