× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা : ঘরে ঘরে উৎসবের আনন্দ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রামে ফাল্গুনের তপ্ত দুপুরে বইছে উৎসবের হিমেল হাওয়া। উপলক্ষ চারশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’। শীতলা পূজা উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই মেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে এখন সাজসাজ রব। জামাইদের কেনাকাটার ধুম আর শ্বশুরবাড়ির আপ্যায়নে মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি ঘর।

এই মেলার প্রধান আকর্ষণই হলো জামাইরা। প্রথা অনুযায়ী, মেলা উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে জামাইরা সস্ত্রীক শ্বশুরবাড়িতে আসেন।বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর পুরো মেলাঙ্গন। মেলায় গিয়ে কে কত বড় মাছ কিংবা কত বেশি মিষ্টি কিনতে পারেন, তা নিয়ে চলে এক নীরব প্রতিযোগিতা। যে জামাই সবচেয়ে ভালো কেনাকাটা করতে পারেন, এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তার বিশেষ সুনাম।

মেলায় আসা জামাইদের পছন্দের তালিকায় থাকে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির সমাহার, যেমনবালিশ মিষ্টি, আমৃত্তি, ছানার জিলাপি ও রসগোল্লা। এ ছাড়া মাছ ও মাংসের তালিকায় থাকে বড় আকারের ইলিশ মাছ, রুই মাছ ও কাতলা মাছ এবং দেশি মুরগি, হাঁস, রাজহাঁস ও খাসির মাংস।

মেলা কমিটির সভাপতি অমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক মেলা নয়; বরং এটি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এক বিশাল মিলনমেলা। দীর্ঘ চারশ বছর ধরে এই মেলা স্থানীয়দের পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে আসছে। কেনাবেচার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে চলে গ্রামীণ আড্ডা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়।

এবারের মেলা পরিদর্শন করেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। তিনি মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং আয়োজক কমিটির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং মেলার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, জোয়ারিয়ার এই জামাই মেলা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

আধুনিকতার ভিড়ে অনেক গ্রামীণ সংস্কৃতি হারিয়ে গেলেও জোয়ারিয়ার এই জামাই মেলা আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। মেলা শেষ হলেও এর রেশ থেকে যায় স্থানীয়দের মনে, আর অপেক্ষার প্রহর শুরু হয় আগামী বছরের জন্য।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!