× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

গোপালগঞ্জে অটোচালক আবির হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

আটককৃতরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

আটককৃতরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর অটোচালক আবির সাহাকে (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তারই তিন মাদকাসক্ত বন্ধু। হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে তার মুখে ব্যাটারির অ্যাসিড ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয়। পরে রিকশাটি নিয়ে গিয়ে এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয় অভিযুক্তরা।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ গত ১২ মার্চ শহরতলীর ঘোষেরচর গ্রামের মুজাহিদ শেখের ছেলে সিহাব শেখকে (২২) গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সিহাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের নাজমুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম শেখ ওরফে রসুল ওরফে পাইচোকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজন পলাতক আসামির নাম-ঠিকানা জানা গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সিহাব জিজ্ঞাসাবাদে জানায়—সে, সাইদুল ইসলাম শেখ এবং পলাতক অপর আসামি সবাই বন্ধু এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তারা প্রায়ই একসঙ্গে মাদক সেবন করত।

গত ৩০ নভেম্বর পরিকল্পিতভাবে আবিরের ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা তাকে ইয়াবা সেবনের প্রলোভন দেয়। আবির রিকশা নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরতলীর ঘোষেরচর উত্তরপাড়া এলাকায় ফিরোজ খানের বাঁশবাগানে যায়। সেখানে রিকশা কিছু দূরে রেখে সবাই মিলে ইয়াবা সেবন শুরু করে।

একপর্যায়ে পলাতক আসামি সেখান থেকে উঠে গিয়ে আবিরের রিকশার ব্যাটারি খোলার চেষ্টা করে। শব্দ পেয়ে আবির সেখানে গিয়ে বাধা দিলে ওই আসামি তার মুখ চেপে ধরে। পরে জ্যাকেটের ফিতা দিয়ে গলায় প্যাঁচিয়ে ধরে। এ সময় সিহাব আবিরের হাত চেপে ধরে এবং সাইদুল ইসলাম শেখ তার পা চেপে ধরে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আবিরের মৃত্যু হয়।

হত্যার পর মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন করতে রিকশার ব্যাটারির অ্যাসিড ঢেলে আবিরের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়। পরে তারা রিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় এবং যন্ত্রাংশ খুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

সিহাবের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ছিনতাইকৃত রিকশার দুটি ব্যাটারি ঘোষেরচর গ্রামের মুন্নাফ শেখের ছেলে টুলু শেখের ভ্যান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া রিকশার অন্যান্য যন্ত্রাংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিখোঁজের সাত দিন পর গত ৬ ডিসেম্বর ঘোষেরচর উত্তরপাড়া এলাকায় ফিরোজ খানের বাঁশবাগান থেকে আবির সাহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ওই দিন রাতেই আবিরের মা অনিতা বালা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান থানার এএসআই নয়ন কুমার সাহা।

পুলিশ জানায়, শুরুতে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেন। তবে সন্দেহভাজনরা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় পরে সোর্স নিয়োগ করা হয়। সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে সিহাব শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

Link copied!