গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সি শিশুকন্যা তুবা ইসলাম তোহার মৃত্যু এলাকায় ভীতি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে—আবারও কি মরণব্যাধি হাম ফিরে আসছে? এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। তারা শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও উপসর্গ বিশ্লেষণ করে কেস স্টাডি প্রস্তুত করছে।
গত ২৭ মার্চ ঢাকার মালিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশু তোবা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান।
তোহার মা নাজমা বেগম জানান, গত ১৯ মার্চ হঠাৎ শিশুটির জ্বর দেখা দেয়। পরদিন ২০ মার্চ জ্বরের সঙ্গে হালকা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমন সাহা চিকিৎসা দেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৪ মার্চ তাকে স্থানীয় সেবা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. কামাল হোসেনের কাছে নেওয়া হয়। তিনি ওষুধ দিলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরে হামের মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে ২৬ মার্চ সকাল ৯টার দিকে আবারও শিশুটিকে মুকসুদপুর উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. মিজানুর রহমান শিশুটির অবস্থা গুরুতর দেখে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ফরিদপুরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির মা জানান, পরে ঢাকার মালিবাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ সাপোর্টসহ চিকিৎসা দেওয়া হলে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও ২৭ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
শিশুটির বাবা তুহিন শেখ বলেন, ‘মুকসুদপুর, ফরিদপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কোনোভাবেই আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না।’ পরে স্থানীয় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়।
টেংরাখোলা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি জানান, শিশুটিকে জন্মের পর নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়েছিল। ২৫ মার্চ হামের টিকা দিতে গেলে শিশুটি অসুস্থ থাকায় তা দেওয়া হয়নি। পরে শিশুটির মৃত্যুর খবর পান।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএন্ডএফপিও) ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য চেয়েছে, যা পাঠানো হয়েছে। গত তিন বছরে উপজেলায় হামের কোনো পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি, নইলে জনমনে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

-20260330143240.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন