ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘কখন বিদ্যুৎ যায়- এমন প্রশ্ন নয়, কখন আসে’ প্রশ্ন গ্রাহকদের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

লোডশেডিং নিয়ে কথা হচ্ছিল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা গ্রামের পংকজ মন্ডল এবং মুকসুদপুর উপজেলার দাশেরহাট গ্রামের পরেশ বিশ্বাসের সাথে। তারা যেটি বললেন তা বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়- ‘কখন বিদ্যুৎ যায়- এমন প্রশ্ন নয়, কখন আসে এই প্রশ্ন গোপালগঞ্জবাসীর।’

তারা জানান, সারাদিন প্রতি দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হয়। আর এতে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, দীর্ঘদিনের অভ্যাস ফ্যানের বাতাসে ঘুমানো, বিদ্যুৎচালিত পাম্প দিয়ে বোরো ধানে পানি দেওয়া, ফ্রিজ-টিভি চালানোসহ নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় দুর্ভোগে দিন কাটছে জেলার লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের। তারা যদিও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক, কিন্তু যারা শহরে বসবাস করেন তারা ওজোপাডিকোর গ্রাহক। তারাও কি বিদ্যুৎ নিয়ে সন্তুষ্ট আছেন? তাদেরও দিন-রাতে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫-৬ বার লোডশেডিংয়ের আওতায় পড়তে হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতে কাজ করা মানুষেরাও পড়ছেন নানা অসুবিধায়।

গোপালগঞ্জ শহরে বসবাসকারী ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মন্ডল বলেন, অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তার লেখাপড়ায় ক্ষতি হচ্ছে। গরমের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করা যায় না।

জেলা সদরের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সঞ্জয় বিশ্বাস জানান, বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিভিন্ন মালামালের ক্ষতি হচ্ছে। ইন্টারনেট গ্রাহকরাও বিরক্ত হচ্ছেন। কারণ এক ফেজ বন্ধ করে অন্য ফেজে বিদ্যুৎ চালু থাকায় ইন্টারনেট সেবাও ঠিকমতো দেওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা না কিছু বলতে পারছেন, না কিছু করতে পারছেন। এ কারণে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো, তারা অনেকেই ইতোমধ্যে সোলার প্যানেলযুক্ত আইপিএস কিনেছেন। অনেকে কেনার পরিকল্পনাও নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎনির্ভর অভ্যাস এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেন অনেকেই।

ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করে জানান, তার প্রায় ৩০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক আছেন। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৬ মেগাওয়াট।

তিনি বলেন, কবে কতটুকু লোডশেডিং হবে তা তিনিও জানেন না। গ্রিড থেকে যখন যতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, তিনি ততটুকুই গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করেন।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৮ মেগাওয়াট পেয়েছিলেন, গ্রাহকদের পালাক্রমে তা বিতরণ করা হয়। পল্লী বিদ্যুতের জিএমকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।