জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে শতাধিক শ্রমিক দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। এ সময় তারা কারখানার প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানান।
শ্রমিকদের দাবি, যমুনা সার কারখানার বিভিন্ন শাখা ও বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক সরবরাহের জন্য গত বছরের ২১ আগস্ট মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কারখানা চলাকালীন ২৩৯ জন ও বন্ধকালীন ১৬৫ শ্রমিক নিয়োগের কথা থাকলেও গত বছরের নভেম্বর থেকে হঠাৎ করেই ১৯০ শ্রমিকের বেতন বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
শ্রমিকরা জানান, গত বছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের বেতন পেলেও নভেম্বরের বেতন না পাওয়ায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নামেন। দ্রুত বেতন পরিশোধ না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অকারণে শ্রমিকদের বেতন বন্ধ রেখেছে। অসহায় শ্রমিকদের সঙ্গে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অমানবিক। আমরা একাধিকবার লিখিতভাবে বেতন পরিশোধের নির্দেশ দিলেও তারা তা মানেনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি শ্রম পরিদর্শককে (সাধারণ) অবহিত করা হয়েছে। তবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং জেএফসিএলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. মমিনুল ইসলাম ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫ এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী শ্রমিক নিয়োগের কথা থাকলেও কারখানা প্রশাসন সে নিয়ম মানেনি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৪ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি জানান, চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে গত বছরের নভেম্বরে ১৯০ শ্রমিকের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৯ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টির সমাধান হলে বাকি শ্রমিকদের মজুরি কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন