বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুইটি ভোট। প্রথম ভোট আমরা 'হ্যাঁ' তে দিব ইনশাআল্লাহ। 'হ্যাঁ' জিতলে বাংলাদেশ জিতবে আর 'হ্যাঁ' পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। কারণ 'হ্যাঁ' মানে আজাদি আর 'না' মানে গোলামি। যারা আমাদের গলায় আবার গোলামির জিঞ্জির পরাতে চায়, তারাই কেবল 'না' ভোটের কথা বলে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখ দেশের বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এ নির্বাচন আট নয়, চৌদ্দ নয়, আঠারো নয়, চব্বিশ নয়, এ নির্বাচন ছাব্বিশের। এ নির্বাচন চৌদ্দশ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়ানো নির্বাচন। এ নির্বাচন আমাদের চব্বিশ হাজার ছেলে-মেয়ের পঙ্গুত্বের নির্বাচন। এ নির্বাচন আয়নাঘরের অন্ধকারযুগ অবসানের পরের নির্বাচন। এ নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীসহ সকল তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর শহীদ পরিবারগুলোর হাহাকারের নির্বাচন। এ নির্বাচন অতীতের ৫৪ বৎসরের যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে সে ফ্যাসিবাদের কবর রচনার নির্বাচন।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে নির্বাচনি জনসভায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার ১১তম দিনে এ নির্বাচনি জনসভার সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির জামালপুর-৫ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও জামালপুর-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল এর সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের শুরা সদস্য জামালপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী, জামালপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী প্রমুখ।
সবশেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জামালপুরের পাঁচটি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০১ সালে জনসমক্ষে বড় ধরনের সভা করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও জামালপুরে এমন জনসভা অনুষ্ঠিত হলো।

