প্রত্যন্ত গ্রাম জঙ্গলপাড়া। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন গ্রামবাসী। মধ্যরাতে হঠাৎ একটি শব্দ হয় ৭০ বছরের বৃদ্ধ সৈয়দ আব্দুল আল মাসুদের ঘরের দরজায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে চার যুবক।
ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ২টা। ঘরের ভেতরে প্রবেশকারী সকলের হাতেই চাকু, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র। তিন যুবক জোর করে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করেন বৃদ্ধ সৈয়দ আব্দুল মাসুদকে। অপর এক যুবক চলে যান তার স্ত্রীর শয়ন কক্ষে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে চাকুর আঘাতে বৃদ্ধের হাতের দুটি আঙুলের আংশিক কেটে যায় এবং প্রচণ্ড রক্তপাত হয়। পরে তার চোখ, হাত ও পা বেঁধে বিছানায় ফেলে তাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেয় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল আল মাসুদ জানান, প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করেছিল দুর্বৃত্তরা। তারা আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধের স্ত্রী রেহানা বেগম জানান, ডাকাতরা তার স্বামীর ঘরে ঢুকার পর তার স্বামী চিৎকার করতে থাকলেও কিছুক্ষণ পর সেই চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান তিনি। সে সময় ডাকাতদলের এক সদস্য তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। একপর্যায়ে তারও মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুর্বৃত্ত। তাকে বিছানায় ফেলে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
জামালপুর পৌর শহরের জঙ্গলপাড়া এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতিকে বেঁধে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের এই ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে। ওই দম্পতির ছেলে-মেয়েরা বাইরে থাকায় বাড়িতে তারা দুজনই বসবাস করতেন। ডাকাতরা আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনার সময় টের পাননি কোনো প্রতিবেশী।
স্থানীয়রা জানান, লুটপাটের পর ডাকাতরা চলে গেলে ওই বৃদ্ধ দম্পতি ডাক চিৎকার শুরু করেন। তখন স্থানীয়রা আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর থানা পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


