× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মোস্তফা গাজী, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

খালকে রাস্তা দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অতঃপর...

মোস্তফা গাজী, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

রাস্তা দেখানো খালটি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাস্তা দেখানো খালটি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দেখে মনে হয় একটি খাল। বৃষ্টি হলে এই খাল দিয়ে পানি নেমে নদীতে চলে যায়। এই খালকেই রাস্তা দেখিয়ে তা পুনর্নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরে কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চর আমখাওয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় (কাবিখা প্রকল্প) ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দাবি প্রকল্পের কাজ দেখে বিল দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে অন্য একটি প্রকল্পের কাজ করেও ঘুষ না দেওয়ায় বিল ছাড় দেওয়া হয়নি। পরে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিল ছাড় দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চর আমখাওয়া ইউনিয়নের পাটাধোয়া পাড়া ছাত্তার মন্ডলের বাড়ি থেকে নওয়ালীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণের জন্য ৭.৪ টন গম, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা না বলেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনগড়া প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অর্থাৎ যে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সেটি মূলত একটি খাল। সেই খালকে রাস্তা দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয় প্রকল্পের সমুদয় অর্থ। পুকুর চুরি নয়, এ যেন খাল চুরি।

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের সভাপতি ও পিআইও অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

রাস্তা দেখানো খালটি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা জানাজানি হলে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। তারা ভুয়া প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘কাবিখা প্রকল্পের তালিকায় যে রাস্তাটির কথা বলা হয়েছে সেটি আসলে রাস্তা নয়। এটি একটি ছোট খালের মতো। কিন্তু খালকে রাস্তা দেখিয়ে, অর্থাৎ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হোক।’

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, পিআইও অফিস যে খালটি রাস্তা দেখিয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন সেখানে কোনো দিনই কাজ করা হয়নি। বরং ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রকল্পের অর্থ। তাই দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি। পাশাপাশি দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা নির্মানের দাবি তাদের।

এ ছাড়াও এই ইউনিয়নের আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজে নয়ছয়ের ঘটনা ঘটেছে। নামমাত্র কাজ করে লোপাট করা হয়েছে সরকারি অর্থ। এ ছাড়াও অন্য একটি প্রকল্পের কাজ করেও ঘুষ না দেওয়ায় বিল ছাড় না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানার বিরুদ্ধে। 

ঘুষ দাবির বিষয়ে গত ১০ মার্চ দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মানিকজান বেগম। অভিযোগ দায়েরের ১৯ দিন পর ২৯ মার্চ তার একটি প্রকল্পের বিল ছাড় দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মানিকজান বেগম জানান, যেখানে অনেক প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। কাজ না করেই বিল দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি কাজ করেও বিল পাচ্ছি না। সংশ্লিষ্ট অফিসের কার্য সহকারী সোহেল রানাকে ৫০ হাজার ঘুষ না দেওয়ায় আমার প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ দায়েরের পর বিল ছাড় দিয়েছে তারা।

রাস্তা দেখানো খালটি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঘুষ দাবির বিষয়ে পিআইও অফিসের অভিযুক্ত কার্য সহকারী সোহেলা রানার সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভুয়া প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান বলেন, টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজগুলো পরিদর্শন করেছি । প্রকল্পগুলোর কাজ দেখে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!