যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। গত ১১ দিনে তিনজন কয়েদি মারা গেছেন।
মৃতরা হলেন- নড়াইলের কালিয়া উপজেলার গুরুগ্রাম এলাকার হেলালউদ্দিন মোল্যার ছেলে আফজাল মোল্যা (৬৫), যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৫৪) এবং কেশবপুর পৌর এলাকার আলতাপোল গ্রামের নাজির বিশ্বাসের ছেলে, যুবদল নেতা ওয়ালিউর রহমান উজ্জল (৪০)।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে এক নারীসহ দুই কয়েদি মারা গেছেন। তাদের প্রত্যেককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। আফজাল মোল্যার বুকে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে ব্যথা শুরু হয়।
কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১২টা ১০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার কয়েদি নম্বর ৯১০৩/এ। তিনি একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।
আফজালকে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর নড়াইল কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৫ সালের ১২ মে পর্যন্ত তিনি নড়াইল জেলা কারাগারে ছিলেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. শাকিরুল কবীর জানান, আফজাল মোল্যাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
তবে আফজাল মোল্যার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া যায়নি।
গত ১২ ডিসেম্বর আপন শ্যালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৫৪) আত্মহত্যা করে মারা যান। তিনি কারাগারের পুরাতন গোডাউনের সিলিংয়ের লোহার বিমের সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস দেন।
মিজানুর রহমান শার্শা উপজেলার আমতলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। প্রিন্স হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিজান কারাগারের কপোতাক্ষ ৩ নম্বর কক্ষে বন্দি ছিলেন। তার কয়েদি নম্বর-৮৭০৯।
গত ৪ ডিসেম্বর কেশবপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আটক বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ওয়ালিউর রহমান উজ্জল (৪০) কারাগারে মারা যান। ৫ ডিসেম্বর সাড়ে ১০টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
উজ্জল কেশবপুর পৌর শহরের আলতাপোল গ্রামের নাজির হোসেন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কেশবপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছিলেন, আটকের আগে উজ্জলকে মারধরের শিকার হয় এবং অসুস্থ হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয়নি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েদি মেজবাহ উদ্দিন (৫৪)। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার শাবলা গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে।
মেজবাহ উদ্দিন চেক জালিয়াতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। তার কয়েদি নম্বর ৮০৭৫/এ। স্বজনরা দাবি করেছিলেন, চিকিৎসা অবহেলার কারণে মেজবাহ উদ্দিন মারা গেছেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফাতেমা খাতুন (৩৬) নামের এক নারী কয়েদি মারা যান। তার কয়েদি নম্বর ১৪২/এ। তিনি যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ের ভাদু মিয়ার স্ত্রী।
মাদক মামলায় ২০ আগস্ট তাকে ঝিনাইদহ কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কারাগারে শ্বাসকষ্ট বেড়ে অসুস্থ হলে হাসপাতালে আনার পথে তিনি মারা যান।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, কারাগারে কার্ডিয়াক রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউতে রেফার করা হয়।
তবে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ সত্য নয়। মারা যাওয়া অধিকাংশ রোগী আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতেন।
কারাগারে ৪৬ শয্যার হাসপাতালে গড়ে ৩২ জন নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকে। তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলা কর্মকর্তা আবিদ আহমেদ জানান, কারাগারে অসুস্থ কয়েদি ও বন্দিদের চিকিৎসাসেবায় কারও অবহেলা নেই। অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন