ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যশোর-১ ও ২ আসনের ২৭৭টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় এই দুইটি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ১,৪৮২টি। ২৭৭টি কেন্দ্রে ৯৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
যশোর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর-১ (শার্শা) এবং যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে শার্শা উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন। ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন।
শার্শা উপজেলায় যশোর-১ আসনে মোট ১০২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ৫৭৭টি ভোটকক্ষ রয়েছে (স্থায়ী ৫৪৬, অস্থায়ী ৩১)। যশোর-২ আসনের ঝিকরগাছা উপজেলায় ৯৪টি কেন্দ্র (স্থায়ী ৫০৫, অস্থায়ী ৬) এবং চৌগাছা উপজেলায় ৮১টি কেন্দ্র (স্থায়ী ৪৮৭, অস্থায়ী ৭) রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে যশোর-১ আসনের ১০২টি কেন্দ্রের ৫১টি এবং যশোর-২ আসনের ১৭৫টি কেন্দ্রের ৪৫টি কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। শার্শায় ৬৯টি কেন্দ্রে ৩৫টি, বেনাপোলে ৩৩টির মধ্যে ১৬টি, চৌগাছায় ৮১টির মধ্যে ২৩টি এবং ঝিকরগাছায় ৯৪টির মধ্যে ২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির পার্শ্ববর্তী কেন্দ্র এবং অতীতে সমস্যা হওয়া কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝামেলা হতে পারে এমন কেন্দ্রও নজরে রাখা হয়েছে।
যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা এবং অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনের আগে থেকেই এসব কেন্দ্রে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি সদস্যও মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একটি মোবাইল টিম থাকবে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুটি মোবাইল টিম থাকবে। সন্ত্রাসী বা নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে এমনদের তালিকা তৈরি করে অভিযান শুরু হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘জেলার ৮২৪টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে ছয়টি সংসদীয় আসনের কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও ভোটকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিয়েছে। শার্শা উপজেলা জামায়াতের নেতা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আমাদের সদস্যরা সচেতন থাকবেন।’
বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত বলেন, ‘নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কেউ যদি ভোট বানচাল বা কেন্দ্রে দখল করতে চায়, আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন