যশোরের শার্শায় পল্লী চিকিৎসক আল আমিন হত্যার একদিনের মধ্যে যুবদলের তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আলাউদ্দিন আলা, লালন হোসেন ও সেলিম হোসেনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে বাংলাদেশ পুলিশের শার্শা থানা।
আটককৃতরা হলেন—শার্শার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন আলা, একই গ্রামের জামির হোসেনের ছেলে লালন হোসেন এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে সেলিম মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, আলাউদ্দিন যুবদলের সক্রিয় সদস্য এবং অন্য দুজনও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আলাউদ্দিন ও সেলিম নাভারন এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী বলেও অভিযোগ রয়েছে। তারা স্থানীয় বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ কর্মী বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া সেলিম নাভারন এলাকার কথিত মাদক ব্যবসায়ী আয়নাল ও জয়নালের ভাই।
এলাকাবাসী আরও জানান, নিহত আল আমিন কিছুদিন আগে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীকে শার্শার কুলফালা গ্রামে রেখে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নাভারনে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় তিন মাস আগে এ নিয়ে বিরোধের জেরে আটক ব্যক্তিরা তাকে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাভারন এলাকার এক ব্যক্তি দাবি করেন, শার্শার বিএনপির এক শীর্ষ নেতার আশীর্বাদপুষ্ট ওই তিনজন। আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে ওই নেতা থানায় গিয়েছিলেন বলেও তিনি জানান। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান বলে অভিযোগ।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, আল আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আল আমিনকে হত্যা করে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন