যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তাদের বেনাপোলের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- বেনাপোলের খলসি রাজগঞ্জ গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে হাফিজুর রহমান, শার্শার আন্দলপোতা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওবাইদুর রহমান এবং বেনাপোলের দুর্গাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নয়ন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বড়আঁচড়া গ্রামের আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার শ্যালক রেজাউল ইসলাম রেজার সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন চলছিল। প্রায় এক মাস আগে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তার শ্যালককে আটকে রেখে পাওনা টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং আসাদুজ্জামানকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকার জামিনদার বানানো হয়।
গত ২৪ এপ্রিল রাত আটটার পর আসাদুজ্জামান এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বড়আঁচড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ পাশে একটি মুদি দোকানের সামনে থেকে ৩-৪টি মোটরসাইকেলে এসে আসামিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
এ সময় চাঁদা না দেওয়ায় তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে এবং আসামিদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের উদ্ধার করে নাভারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই পবিত্র বিশ্বাস জানান, আটক তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।


