ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্কুলছাত্রী হত্যা ও ধর্ষণে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরের স্কুলছাত্রী হত্যা ও ধর্ষণ ঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে।

হত্যাকারী ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রেমিক নাজমুল ইসলামসহ অপর ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২ টার দিকে শত শত নারী-পুরুষ প্রেসক্লাব যশোরের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষণকারীদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নাদিরা দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। স্কুলে যাতায়াতের পথে তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতো রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাছির মোল্যার ছেলে নাজমুল। নাদিরা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নাজমুল ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র শুরু করে।

এক পর্যায়ে নাদিরা প্রেমে পড়লেও নাজমুল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করে রাখে। পরে ভিডিও দেখিয়ে নাজমুল নানাভাবে ব্ল্যাকমেইলিং করতে থাকে। নাদিরা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নাজমুল তাকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দেয়। এতে নাদিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

গত ৮ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে নাদিরা ঘর থেকে বের হন। খোঁজাখুঁজি করেও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।

রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জানা যায়, নাদিরার মরদেহ নাজমুলের বসতবাড়ির সামনের একটি আম গাছে ঝুলে আছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধরা দাবি করেন, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাছির মোল্যা ও তার দুই ছেলে নাজমুল হোসেন, ট্যাপা হোসেন এবং নজরুল মোল্লার ছেলে মিরাজুল ইসলাম নাদিরাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

পরে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে মৃতদেহ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর নাদিরা আক্তারের মা শিল্পী বেগম যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। এতে নাদিরার প্রেমিকসহ চারজনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাছির মোল্যা ও তার দুই ছেলে নাজমুল হোসেন, ট্যাপা হোসেন এবং নজরুল মোল্লার ছেলে মিরাজুল ইসলাম।

এর আগে ৯ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে নাদিরার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নাদিরা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মকতুল হোসেনের একমাত্র মেয়ে ছিলেন।