আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝালকাঠি-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের নির্বাচনি এলাকাজুড়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের কাজী খলিলুর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝালকাঠি জেলা শাখা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঝালকাঠি জেলার ১ ও ২ আসনের সদর উপজেলা ও রাজাপুর উপজেলায় জামায়াতের তিনটি প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ভোররাতে সদর উপজেলার বেশাইনখান এলাকায় দুটি দোকান এবং রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজারে জামায়াতের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি দোকান ও অফিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে জামায়াতের প্রার্থী ড. ফয়জুল হক ও শেখ নেয়ামুল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ভোররাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে গেছে। এতে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম বলেন, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় আটকানো যাবে না। দাঁড়িপাল্লা শান্তির প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত হচ্ছে। এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ করে নারী ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে না যান, সে জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনি অফিসে আগুন দেওয়া হচ্ছে, কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে তাদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চলছে।
শেখ নেয়ামুল করিম বলেন, কোনো কিছুর বিনিময়েই দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকানো যাবে না। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী তার ভাবি হন এবং তিনি তাকে সম্মানের জায়গায় রাখেন। প্রতিপক্ষ বিজয়ী হলে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও জানান। একইভাবে নিজে বিজয়ী হলে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। নলছিটি ও ঝালকাঠিকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যেও সবার সহযোগিতা ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান জামায়াত প্রার্থী।
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, সদর উপজেলার বেশাইনখান এলাকার মুদি ব্যবসায়ী হানিফ মোল্লা ও হাবিব মোল্লা জামায়াতের কর্মী হিসেবে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় আছেন। এ কারণে তাদের আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে পরিকল্পিতভাবে তাদের দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজারে জামায়াতের নির্বাচনি কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়েছে। পূর্বের হুমকি ও বর্তমান ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে প্রতীয়মান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এবি পার্টির নেতা শেখ জামাল হোসেন, এনসিপি আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট বি এম আমিনুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই ও ব্যারিস্টার শেখ মইনুল করিমসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

