প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ঝালকাঠির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ধানসিঁড়ি ইকোপার্কে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঝালকাঠিকে বাংলাদেশের প্রথম পরিচ্ছন্ন শহর এবং একটি আলোকিত, আধুনিক ও সংস্কৃতিমনা জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৪টায় ঝালকাঠি পৌর মিনি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, কৃষি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঝালকাঠিকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য হলো একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তোলা। এজন্য ঝালকাঠিতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য কৃষকদের তথ্যভিত্তিক সেবা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য করতে কৃষি কার্ড কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুস্থ মানুষই একটি উন্নত রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি। তাই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতার সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
ঝালকাঠির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি আলোকিত ঝালকাঠি গড়ে তুলতে চাই। এমন একটি ঝালকাঠি, যেখানে থাকবে আধুনিক নাগরিক সুবিধা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের অনুকূল পরিবেশ। ঝালকাঠিকে বাংলাদেশের প্রথম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
ড. হায়দার বলেন, ঝালকাঠির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধানসিঁড়ি ইকোপার্কে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। সবুজ প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠতে যাওয়া এই সাংস্কৃতিক ভিলেজ হবে শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি জানান, ঝালকাঠির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং অন্যটি সাংস্কৃতিক ভিলেজ। ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মিত হলে জেলার তরুণ-যুবকদের জন্য আধুনিক ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক ভিলেজ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করবে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের এই যাত্রায় সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঝালকাঠিকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, শিক্ষিত, সুস্থ ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত করা সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে ঝালকাঠি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠবে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম বায়েজিদ ইবনে আকবর।


