আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং ২০২৬-এ স্থান অর্জন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। বৈশ্বিক এ মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০০১–১৫০০ ব্যান্ডে অবস্থান করেছে।
গত ২৪ জুন প্রকাশিত এ র্যাংকিংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তাদের অবদান, গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম, নীতিমালা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং বিশ্বের একমাত্র বৈশ্বিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অবদান, গবেষণা, শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক নীতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করে।
২০২৬ সালের এ মূল্যায়নে বিশ্বের ১১৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এতে ১৭টি পৃথক এসডিজি সূচক এবং একটি সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
এ বছর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে তিনটি সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠন (Zero Hunger) সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৫৪.৪ থেকে বেড়ে ৬২.৭, শোভন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Decent Work and Economic Growth) সূচকে ৭.৬ থেকে ৩৭.৫ এবং সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (Good Health and Well-being) সূচকে ১.০ থেকে ৩৩.৪-এ উন্নীত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অর্জনকে শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, টিএইচই ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং ২০২৬-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি ও অবস্থান আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে অবদান রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এটি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত অবস্থান অর্জনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।
শেকৃবির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান বলেন, এ বছরই প্রথমবারের মতো এ বৈশ্বিক মূল্যায়নে অংশ নিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গবেষণাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।

