মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকরা। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
১৯৭৯ সালের শুরুতে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী ক্ষমতাচ্যুত হন। খামেনি শাহকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহা শয়তান’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান এসব সমালোচক।
সমালোচকদের মতে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আদর্শিক অবস্থান এখনো পরিবর্তিত হয়নি। তাদের দাবি, এই শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তারা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে ইসরায়েলের মতো দীর্ঘদিনের মিত্রকে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছেন এবং ইরানের জনগণকেও হতাশ করেছেন, যারা বর্তমান সরকারের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে।
এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যেই তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় গিয়েছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা নেই।
তাদের অভিযোগ, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরে দেশটির আঞ্চলিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তারা কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
কাতার, তুরস্ক ও আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
সমালোচকরা ট্রাম্প প্রশাসনের কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এসব দেশের আঞ্চলিক নীতি অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারা বিশেষভাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রভাব এবং সিরিয়ায় কুর্দি মিত্রদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইরানের ওপর অতিরিক্ত ছাড় দিলে ভবিষ্যতে এই জলপথের ওপর তেহরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ
সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনে করেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা দীর্ঘদিনের।
তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের ইরান নীতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ভুল হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

