ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঝিনাইদহে মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য, টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ফসলি জমি থেকে কাটা হচ্ছে মাটি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য। প্রশাসন প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করছে জরিমানা। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে আবারও সরব হয়ে উঠছে মাটিখেকোরা। কেউ কেউ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে কৃষিজমির টপ সয়েল ও পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছে ইটভাটায়। 

কেউ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে চালিয়ে নিচ্ছে ব্যবসা। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রলিযুক্ত ট্রাক্টর। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ যাচ্ছে অনেকের, আবার কেউ হচ্ছেন পঙ্গু। এসব অবৈধ যানবাহন সড়কে চলাচলের ফলে নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক। জেলার ছয়টি উপজেলায় একই চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিন গিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বোরো মৌসুমের অল্প সময় বাকি। কৃষকদের বীজতলায় শোভা পাচ্ছে সবুজ ধানের চারা। সদ্য রোপা আমন ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। খালি পড়ে আছে এসব জমি। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু মাটিখেকো দানব কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। 

যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, কমছে উৎপাদন ক্ষমতা।  এসব মাটি বহনে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ ট্রলিযুক্ত ট্রাক্টর। উচ্চ শব্দে মাটিভর্তি এসব গাড়ি অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক ও মহাসড়কে। মাটিভর্তি এসব গাড়ি চলাচলের ফলে সড়কগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় মাটিখেকোরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চলছে মাটির ব্যবসা। অনেকেই বলেছেন, টাকা দিলে ভালো, না দিলে হতে হয় হয়রানি। বেশি ঝামেলা করে পুলিশ ও কিছু নামধারী সাংবাদিক।

মান্নান নামে এক মাটি ও বালু ব্যবসায়ী জানান, সবাইকে টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়। টাকা নিলেও দায়িত্ব নিতে চায় না কেউই। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত এলে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়। এখন নতুন নতুন ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে। তারা সবাই অমুক নেতা, তমুক নেতার নাম বলে ব্যবসা করছে। তাদের দাপটে আমাদের মতো পুরোনো ব্যবসায়ীরা অসহায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান বলেন, কৃষিজমির টপ সয়েল রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে ইতোমধ্যে একটি ওরিয়েন্টেশন করেছে। এ বিষয়ে কৃষকদের সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, কৃষিজমির সিংহভাগ পুষ্টি উপাদান থাকে টপ সয়েলে। কিছু অসাধু ব্যক্তি টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা। জমির টপ সয়েল রক্ষায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত সচেতন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কৃষিজমির টপ সয়েল রক্ষায় সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।