প্রতিবছরের মতো এবারও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর বকুলতলা বাজারে ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজার মেলায় পিঠে লোহার বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে তুলে রশির সাথে বেঁধে ঘুরানো হবে ৭ সন্ন্যাসীকে।
মেলার সভাপতি শ্রী সাধন কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক সুবল কুমার জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই উৎসব দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে তাই তাদের দেখাদেখি আমরাও এই উৎসবটি আনান্দের সাথে পালন করে থাকি। পহেলা বৈশাখ থেকে মেলা শুরু হয়ে চলে তিন দিন। মেলার প্রধান আকর্ষণ শেষ দিন দোসরা বৈশাখ (বৃহস্পতিবার)। ওই দিন চড়কপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কিছু লোককে সন্ন্যাসী সাজিয়ে পিঠে লোহার বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে তুলে রশির সাথে বেঁধে ঘুরানো হয়। এ বছর ৭ সন্ন্যাসীকে পিঠে বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে তুলে ঘুরানো হবে।
এবার চড়ক গাছে উঠে ঘুরবেন অসীত কর্মকার (মনা), বিপ্লব কর্মকার, অধীর হালদার, সাধন বাবু রায়, আনান্দ বিশ্বাস, বসুদেব, ভিম হালদার, নয়ন কর্মকার ও মহাদেব হালদার।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবল কর্মকার জানান, এবার সন্ন্যাসীর সংখ্যা ৯ জন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অসীত কর্মকার ও বয়স কম হওয়ায় নয়ন কর্মকার ছাড়া বাকি ৭ সন্ন্যাসী পিঠে বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঘুরবে। চড়ক পাক দেওয়া হয় দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
মেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরও জানান, তারা এই চড়ক পূজায় সন্ন্যাসীদের পিঠে বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে তুলে ঘুরানোকে চড়কপূজা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। এ বছর ১৬ এপ্রিল দোসরা বৈশাখ বৃহস্পতিবার বিকালে সন্ন্যাসীদের চড়ক গাছে ঘুরানো হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাটি দেখতে আসে। এমনকি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলা উপভোগ করতে এসে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এই মেলায় বিভিন্ন ধরনে দোকান বসিয়ে মেলাকে জমজমাট করে তোলা হয়।
প্রবীণ সুবল হালদার বলেন, এই মেলা আগে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে শ্রী অমুল্য বাবু জজ সাহেবের জমিতে হাটখোলায় অনুষ্ঠিত হতো (বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হয়েছে)। এই চড়ক পূজার মেলা কখন থেকে কিভাবে শুরু হয়েছে তার সঠিক কোনো ইতিহাস পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানান, এই উৎসব পালনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা করা হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

