ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৪ দিন পর বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের মহেশপুরের পলিয়ানপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত এক বাংলাদেশির মরদেহ চার দিন পর ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত রতি জয়ধর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। তিন মাস আগে তার পরিবারের সদস্যরা ভারতে গেলেও তাদের কাছে যেতে পারেননি রতি।

মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ইছামতি নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে কচুরিপানার নিচে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন। মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। পরে মহেশপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহটি তিন থেকে চার দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানিতে পচে ফুলে উঠেছিল এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল। দেহ তল্লাশির সময় পাওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে এটি রতি জয়ধরের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর শুক্রবার সকালে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহের ঘাড়ের ডান-বাম পাশে, পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর জানান, রতির দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছেন। ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে এলাকায়। তিন মাস আগে রতির স্ত্রী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট মেয়ে ভারতে চলে যান।

সম্প্রতি গ্রামের জমি-ঘর বিক্রি করে তিন দিন আগে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রতি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।

শুক্রবার দুপুরে রতি জয়ধরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘর দেখা যায়। প্রতিবেশী সঞ্জয় বাইন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। রতি জয়ধরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।