ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জনবল সংকট, কোনোমতে চলছে সেবাদান

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জনবল সংকট থাকলেও সেবাদানের বিভিন্ন কার্যক্রম কোনোভাবে অব্যাহত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেলের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মোট ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৬ জন, শূন্য রয়েছে ৫টি পদ। বিশেষ করে ভেটেরিনারি সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ খালি থাকায় মাঠপর্যায়ের সেবায় চাপ বেড়েছে।

স্থানীয় কসাইখানায় পশু জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি সার্জনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম থাকলেও তা নিয়মিতভাবে সম্ভব হচ্ছে না। তবে সীমিত জনবল নিয়েই প্রাণিসম্পদ সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ডা. রাসেল জানান, পিপিআর ভ্যাকসিন কর্মসূচির আওতায় পল্লী প্রাণিচিকিৎসকদের মাধ্যমে উপজেলাজুড়ে ছাগলের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া এলএসডি, রাণীক্ষেত ও জলাতঙ্ক রোগের টিকাদান এবং নজরদারি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বার্ড ফ্লু ও খুরা রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে মুরগি পালন, পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক খামার পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

দপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয় এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ভেটেরিনারি সার্জনের তত্ত্বাবধানে জবাই করার বিধান রয়েছে।

এদিকে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে খামারিদের নিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম উপস্থিত থাকবে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় পশু প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে চলছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির জন্য প্রায় ২০ হাজার গরু এবং ৩১ হাজার ৪৬০টি ছাগল প্রস্তুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে। পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ হলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

স্থানীয় খামারিরা দ্রুত শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।