ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিএনপির শক্ত ঘাঁটি জয়পুরহাট-২, পাল্টা কৌশলে জামায়াতে ইসলামী

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জয়পুরহাট জেলা কৃষিপ্রধান অঞ্চল। একসময় সোনালী আখ ছিল এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল। বর্তমানে ধান ও আলু প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া ‘সোনালী মুগরি’ ও ‘লতিরাজ’ কচু জাতীয় ফসলের জন্য জয়পুরহাট দেশের কৃষি মানচিত্রে বিশেষভাবে পরিচিত।

জয়পুরহাট-২ আসন (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা) দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনে বিএনপি বারবার এখানে জয়লাভ করেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখার জন্য বিএনপি জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীও নতুন কৌশলে আসনটি দখলের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। ভোটকেন্দ্রের স্থায়ী সংখ্যা ১০৪টি। মোট ভোটকক্ষ ৭১০টি, যার মধ্যে ৬৭৫টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী।

বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিজয়ের বিকল্প নেই। নির্বাচিত হলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে সহায়তা করা হবে।

সার ও বীজ সংকট দূর করে ন্যায্যমূল্যে কৃষক যাতে মানসম্পন্ন ফসল বিক্রি করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীমুক্ত সমাজ ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা নিশ্চিত করব।

জামায়াত প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ বলেন, জয়পুরহাট-২ কৃষিপ্রধান এলাকা। জয়লাভ করলে হিমাগার ও বীজাগার নির্মাণসহ আলু থেকে চিপস তৈরির শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেব। এ  ছাড়া বেকার তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দান করা হবে। মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে লোন বিনাসুদে দেওয়া হবে।

এবি পার্টির প্রার্থী এস এ জাহিদ বলেন, ‘যেহেতু আমরা নতুন দল, তাই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা স্বাভাবিক। তবে নির্বাচিত হলে সিনিয়র প্রার্থীদের পরামর্শে আসনের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। জনগণের পাশে একজন সেবকের মতো থাকব।’

স্থানীয়রা চান এমন জনপ্রতিনিধি, যিনি কৃষি খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবেন। তরুণ ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন। কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে আলুর ন্যায্য মূল্য পাই না। নির্বাচিত প্রার্থী যেন কৃষকের স্বার্থ চিন্তা করে।’

বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, আঞ্চলিক প্রভাব ও দলীয় ভোটব্যাংক এসবই জয়পুরহাট-২ আসনের নির্বাচনি ফলাফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।