× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

হাতকড়া নিয়েই মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিলেন যুবলীগ কর্মী

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিলেন কারাবন্দি যুবলীগ কর্মী মিন্নত আলী। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিলেন কারাবন্দি যুবলীগ কর্মী মিন্নত আলী। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মায়ের শেষ বিদায়ে সন্তানের উপস্থিতি মানেই এক গভীর মানবিকতা আর হৃদয়বিদারক বেদনার দৃশ্য। তেমনই এক করুণ মুহূর্তের সাক্ষী হলো জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আবাদপুর গ্রামের মানুষ। কারাবন্দি অবস্থায় মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেন যুবলীগ কর্মী মিন্নত আলী (৩৬)। 

চোখে অশ্রু, বুকে ভার—এক হাতে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি মায়ের খাটিয়া কাঁধে তুলে নেন। হাতকড়ার শিকল বাঁধা থাকলেও মায়ের প্রতি শেষ দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা মানতে রাজি হননি তিনি।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ পাহারায় মিন্নত আলীকে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আবাদপুর গ্রামে আনা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মা মোমেনা বেগমকে দাফন করা হয়। মোমেনা বেগম আবাদপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ কর্মী মিন্নত আলী ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের আওতায় জয়পুরহাট সদর থানার একটি মামলায় ২১ ডিসেম্বর আটক হয়ে গত ৪১ দিন ধরে কারাগারে ছিলেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে তার মা মারা যান। কারাগারে থাকা অবস্থায়ই মায়ের মৃত্যুর খবর পান মিন্নত আলী।

মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-মামুন মিয়া মানবিক বিবেচনায় মিন্নত আলীকে তিন ঘণ্টার জন্য সাময়িক প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।

জানাজার সময় এক হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। অনেকের চোখে জল দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আইন তার নিজস্ব পথে চলে। কিন্তু মায়ের জানাজায় ছেলের এমন উপস্থিতি আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার উম্মে সালমা বলেন, মিন্নত আলীর মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রীর আবেদনের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, পরিবারের আবেদনের পর মানবিক দিক বিবেচনায় মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য তাকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!