জয়পুরহাট-১ (পাঁচবিবি-সদর) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং উপজেলায় নির্বাচনোত্তর কোনো প্রকার রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা না ঘটার পেছনে বড় অবদান রেখেছেন পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
অপরদিকে, জয়পুরহাট-১ আসনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে একজন বিত্তশালী ও প্রভাবশালী প্রার্থী উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তার প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে কালো টাকার ছড়াছড়ি ও সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ তা দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেন।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলায় গতানুগতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি নিজস্ব বিবেচনায় প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের দক্ষতার সঙ্গে বাছাই করেন।
ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণেও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে উপজেলায় ৬৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ করে সেগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।
ভোটের দিন সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের টহল দলের পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের আটটি মোবাইল টিম, পুলিশের একটি স্ট্রাইকিং টিম, আনসার বাহিনীর দুটি স্ট্রাইকিং টিম এবং অফিসারসহ মোট ২৭৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হয়।
পাশাপাশি তিনি নিজে গোয়েন্দা সদস্য, উপজেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
নির্বাচনের ফলও দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হয়। এ কারণে স্থানীয় জনগণ তার নির্বাচনি কার্যক্রমে সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ জানান, উপজেলায় মোট ৬৯টি ভোটকেন্দ্রে অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রেই কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করেছি এবং আমার বিশ্বাস, এ উপজেলায় নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের আপত্তি নেই। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে এবং নিরপেক্ষ প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থীরাও নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
সার্বিকভাবে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মিডিয়াকর্মী এবং ভোটার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য ভোটার, ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মিডিয়াকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।


