জয়পুরহাটের কালাইয়ে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার করিমপুর শেখপাড়া গ্রামের মৃত শেখ খোরশেদ আলীর ছেলে শেখ নজরুল ইসলাম (৬৪)-এর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শেখ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শেখ নজরুল ইসলাম তার নতুন বসতবাড়ির পূর্ব পাশে লেবারের মাধ্যমে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক খননের কাজ করছিলেন। কাজ চলাকালে পাশের বাড়ির মৃত শেখ মোয়াজ্জিম হোসেনের তিন ছেলে শেখ জাকির হোসেন (৩৮), শেখ জুলফিকার আলী (৪৫) ও শেখ দুয়েল (৩২) ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন এবং হুমকি দিতে থাকেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক আপেল (২৬) মারধরের শিকার হয়ে আহত হন।
পরে নাছির শেখ ঘটনাস্থলে এলে তাকেও লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে নাছির শেখ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় নাছিরের স্ত্রী হাসুফা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত নাছির শেখকে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রমিক আপেল বলেন, ‘আমি কাজ করতে এসেছি, আমাকে আঘাত করা অন্যায়। আমি এর বিচার চাই।’
গুরুতর আহত নাছির শেখ জানান, সেপটিক ট্যাংক খননের সময় লেবার আপেলকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে জাকির হোসেন তার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তারা তার সন্তানকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছে।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, ‘তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে কালাই থানার ডিউটি অফিসার আতোয়ার বলেন, ‘অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



